সরবরাহ সংকট ও দুবাই চকোলেটের বাড়তি চাহিদা

রেকর্ড উচ্চতায় পেস্তা বাদামের দাম

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ও বিশ্বজুড়ে ‘দুবাই চকোলেটের’ ব্যাপক জনপ্রিয়তার জেরে বিশ্ববাজারে পেস্তা বাদামের দাম গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি চাহিদার অভাবনীয় উল্লম্ফন এ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বের অন্যতম বড় উৎপাদনকারী দেশ ইরান থেকে পেস্তা বাদাম রফতানি চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান এক্সপানার তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চে পাউন্ডপ্রতি পেস্তা বাদামের দাম ৪ ডলার ৫৭ সেন্টে গিয়ে ঠেকেছে। এটি ২০১৮ সালের পর সর্বোচ্চ দাম। নতুন করে দাম বাড়ার পেছনে বড় একটি কারণ হিসেবে ‘দুবাই চকোলেটের’ কথা উল্লেখ করা আছে প্রতিবেদনে।

পেস্তা বাদামের ক্রিম ও কুড়কুড়ে পেস্ট্রি দিয়ে তৈরি চকোলেটটি ২০২৩ সালে ভাইরাল হয় অনলাইনে। এর পর থেকে বিশ্বজুড়ে পেস্তা ফ্লেভারের পণ্যের এক বিশাল চাহিদা তৈরি হয়েছে, যা বাজারে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান বিশ্বের মোট পেস্তা উৎপাদনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। কোনো কোনো বছর বৈশ্বিক পেস্তা রফতানির ২৫-৩০ শতাংশই আসে ইরান থেকে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি বেশ জটিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। যদিও বর্তমানে যুদ্ধবিরতি চলছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে রেখেছে। ফলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়ায় সরাসরি বাণিজ্যে প্রভাব পড়ছে।

ইরান জানায়, দেশটিতে বারবার ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়ার ফলে বিদেশী ক্রেতারা রফতানিকারকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।

লন্ডনভিত্তিক পাইকারি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান বোর্না ফুডসের প্রধান নির্বাহী বেহনাম হায়দারিপুর বলেন, ‘যুক্তরাজ্যে পেস্তার আমদানি মূল্য যুদ্ধের আগে যেখানে কেজিপ্রতি ১৬ পাউন্ড ছিল, তা এখন বেড়ে ১৮ দশমিক ৫০ পাউন্ডে দাঁড়িয়েছে। গ্রীষ্মের সময় আইসক্রিম তৈরির জন্য পেস্তা বাদামের ব্যাপক চাহিদা থাকে।’

তাই সামনের দিকে সরবরাহ নিয়ে ব্যবসায়ীরা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।’

এদিকে ইরানি পেস্তার বিকল্প হিসেবে ব্যবসায়ীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকছেন। দেশটি বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ পেস্তা উৎপাদন করে। তবে মার্কিন রফতানিকারকরা এরই মধ্যে মজুদ থাকা অধিকাংশ পণ্য বিক্রি করে ফেলেছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া ইরানি পেস্তায় তেলের পরিমাণ বেশি থাকায় এটি খাবারের স্বাদকে অনন্য করে তোলে। যুক্তরাজ্যের বাকলাভা প্রস্তুতকারকরা বলছেন, ইরানি পেস্তার পরিবর্তে আমেরিকান পেস্তা ব্যবহার করলে ওভেনে তা দ্রুত শুকিয়ে পুড়ে যায়। ফলে খাবারের গুণগত মান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরান, তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় দেশগুলোয় প্রতিকূল আবহাওয়া ও খরার কারণে ২০২৫ সালে উৎপাদন এমনিতেই কম হয়েছে। তারপর যুদ্ধের কারণে শিপিং লাইনগুলো রুট পরিবর্তন বা বাতিল করায় খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।

আরও